Arunima Sinha biography in Bengali - Interest Education


অরুনিমা সিনহার জীবনী





নাম : অরুনিমা সিনহা


অন্য নাম : সনু


জন্ম তারিখ : ২০ জুলাই ১৯৮৮


জন্মস্থান : আম্বেদকর নগর, উত্তর প্রদেশ


জাতীয়তা : ভারতীয়


বিখ্যাত : প্রথম পা-হীন মহিলা যিনি জয় করেছেন মাউন্ট এভারেস্ট


পেশা : পর্বতারোহী এবং ভলিবল খেলোয়াড় 


পুরস্কার : পদ্মশ্রী, তেনজিং নরগে ন্যাশনাল এডভেঞ্চার আওয়ার্ড, প্রথম মহিলা পুরস্কার




অরুনিমা সিনহার পরিচয়, আগের জীবন এবং ছোটবেলা


অরুনিমা সিনহা জন্মগ্রহণ করেন ২০ জুলাই ১৯৮৮ সালে উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগরে
তিন বছর বয়সে তার বাবা মারা যান, কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পরেও ভালবাসার অভাব হয়নি। । খুব অল্প বয়সে তিনি ক্রীড়া সম্পর্কে বেশ উত্সাহী ছিলেন এবং এটি সেই আবেগ যা তাকে জাতীয় স্তরের ভলিবল খেলোয়াড় হতে পরিচালিত করেছিল। কিন্তু, তার জীবনে একটি নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে যখন তার একটি পা ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে কাটতে হয়েছিল।


তার জীবনের নাটকীয় পরিবর্তন ( ট্রেন দুর্ঘটনা )


২০১১ সালের, এপ্রিল মাসে অরুনিমা সিনহা ভলিবল চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনার পদক গলায় ঝুলিয়ে নিয়ে পদ্মাবতী এক্সপ্রেসে লখনউ থেকে দিল্লিতে ফেরার সময়, ঘটে এক বিরাট কান্ড।
ফেরার সময় ট্রেনে কিছু দুষ্কৃতী তার সোনার পদক  ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু কোন খেলোয়ার কি করে তার প্রাপ্য সম্মান দিয়ে দেয় দুষ্কৃতীদের হাতে ! তাই সে তার সোনার পদক না দেওয়াতে দুষ্কৃতীরা সোনার পদকটি ছিনিয়ে নিয়ে অরুনিমাকে চলন্ত ট্রেন থেকে বাইরে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।
যখন তাকে ট্রেন থেকে বাইরে ফেলে দেওয়া হয় তখন দুর্ভাগ্যবশত তার পরের লাইন থেকে অন্য একটি ট্রেন আসছিল সেই ট্রেনের ধাক্কা খেয়ে অরুনিমা লাইনে পড়ে যায়, এবং তার একটি পা হাটুর নিচে কেটে দু ভাগ হয়ে যায় এবং অন্য পায়ের হাড় ভেঙে বাইরে বেরিয়ে এসেছিল।
সেই রাতে অরুনিমা অজ্ঞান এবং অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকে ট্রেন লাইনের উপরে, এবং ছোট ছোট পাথরের মাঝখানে পড়ে যন্ত্রণায় আর্তনাদ করতে থাকে, যে কেউ বাঁচাও! কেউ বাঁচাও ! কিন্তু কেউ আসেনি, সে রাত্রে। যন্ত্রণায় আর্তনাদ করতে করতে অরুনিমা ঝাপসা দেখতে শুরু করেছিল এবং রেল লাইনের ছোট ছোট ইঁদুর এসে অরুনিমার পা খেতে শুরু করে, সারারাত অরুনিমা ওইভাবে লাইনের উপর পড়ে থাকার পর যখন সকাল হয় তখনপাশের গ্রাম থেকে মাঠে চাষ করতে আসা কিছু কৃষক আরুনিমা কে দেখতে পায় এবং তাকে বারেলি ডিস্ট্রিক্ট হসপিটাল ( উত্তর প্রদেশ) ভর্তি করে।
কিন্তু হসপিটালে ভর্তি করার পড়া শুরু হয় আরো একটি অসুবিধা, সেখানকার ডাক্তার নার্স এবং কম্পাউন্ডার বলাবলি করেন কিভাবে চিকিৎসা শুরু করবে তাদের হসপিটালে রক্ত ছিল না। অরুনিমা তখন দেখতে পারছিল না ডাক্তারদের কথা শুনছিল এবং সে নিচে ডাক্তারদেরকে বলেছিল তার পা কাটতে, ডাক্তার এবং কম্পাউন্ডার আশ্চর্য হয়ে যায় তার কথা শুনে এবং তারা নিজেরাই নিজের দেহ থেকে রক্ত দেয় অরুণিমাকে।
যখন সবাই জানতে পারল অরুনিমা একজন জাতীয় খেলোয়াড় তখন অরুনিমাকে কিং জর্জ মেডিকেল কলেজে ( লখনোউ ) ভর্তি করানো হয়, এবং তারপর লখনোউ থেকে দিল্লিতে ভারতের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তাকে ২5000 রুপি ক্ষতিপূরণ দিয়েছে এবং তাকে সর্বোত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জাতীয় আগ্রাসনের পর তাকে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী অজয় মাকেনের কাছ থেকে ২00,000 টাকা অতিরিক্ত মেডিকেল ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এবং, এর পাশাপাশি সিআইএসএফ-তে চাকরির সুপারিশও দেওয়া হয়েছিল এবং তাকে ভারতীয় রেলওয়েতে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাকে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তিনি চার মাস অতিবাহিত করেন। একটি দিল্লী ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাও তাকে একটি কৃত্রিম লেগ প্রদান করে।

ভয়ঙ্করতম পেশা এক কঠিন খেলা


অরুনিমা হাসপাতালে থাকাকালীন খবরের কাগজে একটি আর্টিকেল পড়েন যেটা ছিল তার সম্পর্কে আর্টিকেল টা হল এই যে অরুনিমা আমার কাছে ট্রেনের টিকিট না থাকার জন্য ট্রেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তখন অরুনিমা বেছে নেয় জীবনের ভয়ংকর তো একটি খেলা।
তার দুর্ঘটনা সম্পর্কে কিছু নেতিবাচক তথ্য ছিল এবং তার চেয়ে আরও বেশি কিছু করার তার দৃঢ়সংকল্প তৈরি হয়েছিল। ভলিবল খেলোয়াড় হওয়ার পরিবর্তে তিনি মাউন্টেনার হয়ে ওঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। মানুষ ও ডাক্তার তার পরিকল্পনা শোনার জন্য অবাক হয়ে যান এবং অনেকেই তাকে বারণ করেছিল কাটা পা নিয়ে কিভাবে এভারেস্ট জয় করবে' কিন্তু, আসলেই তার জীবনে অসাধারণভাবে অসাধারণ কিছু করার অযোগ্য সিদ্ধান্ত ছিল হয়তো তাই জন্যই সে বেছে ছিল এরকম সিদ্ধান্ত, মেনে নিতে পারিনি খবরের কাগজের সেই আর্টিকেল।

সেই সময়ে তিনি ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিং অত্যন্ত অনুপ্রাণিত হন। হাসপাতাল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বাড়ি যাওয়ার পরিবর্তে তিনি সরাসরি বাচন্দ্রী পাল গিয়েছিলেন। বাচন্দ্রী পাল প্রথম নারী যিনি মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করেছিলেন, যিনি অরুণিমাকে তার স্বপ্নের প্রতি নিবেদিতভাবে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

www.interesteducation.in


পরে, তিনি বাচন্দ্রী পালের নির্দেশনায় কাজ শুরু করেন এবং এটি তাঁর জীবনের অন্যতম প্রধান পদক্ষেপ। ২013 সালের ২1 মে, 10:55 এ, সে মাউন্ট এভারেস্টের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল। এশিয়াতে এভারেস্ট, আর্জেন্টিনার আঙ্কাকাগুয়া, অস্ট্রেলিয়ার কোসিয়ুসজ্কো, ইন্দোনেশিয়ার কার্স্টেনজ পিরামিড, আফ্রিকার কিলিমঞ্জারো এবং ইউরোপের এলব্রাসের ছয়টি মহাদেশের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল। তিনি সাতটি মহাদেশের সাতটি শীর্ষ সম্মেলনের সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে লক্ষ্য রাখেন এবং তিনি ছয়টি মহাদেশের সর্বোচ্চ শিখর জয় করেছিল।




পুরস্কার এবং সম্মাননা


www.interesteducation.in


২০১৫ সালে পদ্মশ্রী  চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পেয়েছিলেন তিনি।

তার লেখা বই



২০১৪ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে তার নামকরণ করা হয়েছে "পাহাড়ে আবার জন্মগ্রহণ করা"।

উপসংহার

www.interesteducation.in



অরুনিমা সিনহা ভারতীয়দের গর্ব, ভারতীয় মহিলাদের গর্ব, সমস্ত বিকলাঙ্গ মানুষের গর্ব, অরুনিমা একটি কথা বলেছিলেন -

" যখন কোন লক্ষের জন্য তোমার অন্তর-আত্মা জেগে যাবে তখন তোমাকে কেউ আটকাতে পারবে না ওই লক্ষ্যের পাওয়ার জন্য " ।


এক হার না মানা জেদি মেয়ে যার একটি পা কাটা তার জায়গায় আর্টিফিশিয়াল পা লাগানো সেই অবস্থায় মাউন্ট ট্রেনিং একবার ভাবুন।




অরুনিমা সিনহার নিজস্ব বক্তব্য স্বচক্ষে দেখতে চাইলে ক্লিক করুন নিচের দেওয়া ইউটিউব ভিডিওতে,





 এছাড়া কমেন্ট করে জানাতে পারেন এমন এক হার না মানা মেয়ের জীবন কাহিনী পড়ে আপনি কি অনুভূতি পেলেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post