A.P.J Abdul Kalam Biography in Bengali - এ.পি.জে আব্দুল কালামের জীবনী | InteresT EducatioN


ড: এ.পি.জে. আব্দুল কালামের জীবনী






পিতা : জইনুলাবউদ্দীন আব্দুল কালাম


মাতা : অশিয়াম্মা


জন্ম তারিখ : ১৫ অক্টোবর ১৯৩১ সালে


জন্মস্থান : তামিলনাড়ু রাজ্যের রামেশ্বারম শহরে


জাতীয়তা : ভারতীয়


পেশা : স্বাধীন ভারতের রাষ্ট্রপতি ও বিজ্ঞানী


রাজনৈতিক জীবন : 2002 থেকে ২007 সাল


বিখ্যাত : রাষ্ট্রপতি এবং আবিষ্কারের জন্য


পুরস্কার : তিনি একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন



এ.পি.জে আব্দুল কালামের ছোটবেলা ও আগের জীবন


 
ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি তথা বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক, এ.পি.জে আব্দুল কালাম হলেন সমগ্র ভারতবাসীর কাছে এক গর্ব । তাঁর অনন্য কীর্তি ও দেশত্বভাব প্রত্যেকটা মানুষের কাছে আজও এক মহান অনুপ্রেরণা। ভারতবর্ষের এই মহান বৈজ্ঞানিকের জন্ম হয় ১৫ অক্টোবর ১৯৩১ সালে, তামিলনাড়ু রাজ্যের রামেশ্বারম শহরে ।
তিনি কিন্তু সেখানকার এক দরিদ্র তামিল মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তাঁর বাবার নাম ছিলো জয়নুল-আবেদিন, যিনি কিনা রামেশ্বারমের একজন সামান্য নৌকা চালক ছিলেন এবং তাঁর কাজ ছিলো প্রত্যহ হিন্দু তীর্থযাত্রীদের রামেশ্বরম ও তাঁর সংলগ্ন ধনুষ্কোডিতে পারাপার করানো আর তাঁর মায়ের নাম ছিলো অশিয়াম্মা, যিনি ছিলেন সাধারণ এক গৃহবধু।
দরিদ্র পরিবার হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই কালাম স্যারকে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বভার গ্রহণ করতে হয় । ছোটবেলায় খবরের কাগজ বিক্রি করেই তিনি নিজের লেখাপড়ার খরচ চালাতেন কিন্তু এত অভাবের পরও তিনি কখনোই তাঁর বাবা-মাকে এই বিষয়ে অভিযোগ করেননি ।

শিক্ষাজীবন ও গবেষণা





রামনাথপুরম স্কোয়ার্টজ ম্যাট্রিকুলেশন স্কুল থেকেই তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় । স্কুলে, তিনি ছিলেন একজন খুবই সাধারণ মানের ছাত্র কিন্তু পড়াশোনার প্রতি তাঁর মনোযোগ ছিলো খুবই গভীর, সেইসাথে ছিলেন কঠোর পরিশ্রমীও । জানা যায়, তিনি নাকি নিজের পড়াশোনাকে আরো উন্নত করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে যেতেন এবং অঙ্ক কষতেন 
স্কুলজীবন শেষ হওয়ার পর, তারপর তিনি ভর্তি হন তিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফ কলেজে এবং সেখান থেকে ১৯৫৪ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন । এরপর ১৯৫৫ সালে তিনি চেন্নাইয়ে চলে আসেন এবং সেখানকার মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে বিমানপ্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান ।
তাঁর স্কুলজীবন থেকেই স্বপ্ন ছিলো, ভারতীয় বায়ু সেনার একজন বিমান পাইলট হওয়ার কিন্তু সেই স্বপ্নকে তিনি ভবিষ্যতে পূরণ করতে একটুর জন্য ব্যর্থ হন ।
তার পরিবর্তে তিনি ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থায় (DRDO) নিয়োগ হন এবং সেখানে হভারক্রাফ্ট প্রকল্পের সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন কিন্তু DRDO-তে নিজের কাজে সন্তুষ্ট না হওয়ায় তিনি পরবর্তী সময়ে সেই সংস্থাকে ছেড়ে দেন ।

আরো পড়ুন : অরুনিমা সিনহার জীবনী

কর্মজীবন ও গবেষণা





এরপর সাল ১৯৬২, যখন স্যার এ.পি.জে আব্দুল কালাম ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ISRO-তে যোগ দেন আর সেখানে অনেক বছর কাজে করে বিভিন্ন মহাকাশ সম্বন্ধীয় পরিকল্পনার সফলপূর্বক পরিচালনা করেন ।
তাঁর সেখানে সবচেয়ে বিখ্যাত অবদান ছিলো,যখন তিনি নিজের তৈরী ভারতের সর্বপ্রথম উপগ্রহ “রোহিনী” অর্থাৎ SLV3-এর সফল উৎক্ষেপন করেন এবং সেটাকে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করতে সফল হন । এছাড়াও তিনি ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ISRO-এর হয়ে এমন অনেক মহাকাশ বিষয়ক কাজ করেছিলেন যার দৌলতে সেইসময় ভারত, আন্তর্জাতিক স্পেস ক্লাবের সদস্য হতে পেরেছিলো ।
ISRO-তে কাজ করার সময় তিনি দেশ-বিদেশে অনেক খ্যাতি অর্জন করেন । সেই সময় তাঁকে আমেরিকার স্পেস এজেন্সী NASA-তে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো কিন্তু সেখানে তিনি কাজ করতে রাজি হননি । এছাড়া সেইসময় তিনি ভারতের বিখ্যাত বিজ্ঞানী রাজা রামান্নার সাথে মিলে ভারতের প্রথম পারমানবিক ক্ষেপনাস্ত্র তৈরী করতে সক্ষম হন ।
সাল ১৯৯৮, যখন স্যার এ.পি.জে আব্দুল কালামের নেতৃত্বেই ভারত দ্বিতীয়বারের জন্য পরমাণু বোমের সফলভাবে পরীক্ষা করতে সক্ষম হয় । যার সুবাদে তিনি সেইসময়ে হয়ে ওঠেন ভারতের সবথেকে বিখ্যাত এবং সফল পরমাণু বৈজ্ঞানিক । বর্তমানে আজ তাঁর জন্যই কিন্তু ভারত, পরমাণু হাতিয়ার নির্মান করতে সফল হতে পেরেছে । তাঁর এই মহান অবদান কখনই আমাদের ভোলার নয় ।
২০০২ সালে তাঁর ভারতের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁর প্রতি জনতার সম্মানকে লক্ষ্য করে তৎকালীন এন.ডি.এ সরকার তাঁকে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রার্থীর হিসাবে ঘোষণা করেন । ফলস্বরূপ, সেইবছরেই তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিতও হন ।


রাষ্ট্রপতির পদ




ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে একটি স্পট থেকে তিনি যখন খুব কমই মিস করেন তখন একটি যোদ্ধা পাইলট হয়ে উঠার তার আশা হতাশ হয়ে পড়েছিল। কালাম 1958 সালে সিনিয়র বৈজ্ঞানিক সহকারী হিসাবে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) তে যোগদান করেন। 1969 সালে নবনির্মিত ভারতীয় স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (ইস্রো) এ চলে যাওয়ার পর তাকে প্রথম উপগ্রহের এসএলভি -3 এর প্রকল্প পরিচালক হিসাবে নামকরণ করা হয়। ভারতীয় মাটিতে ডিজাইন এবং উত্পাদিত লঞ্চ যানবাহন।
198২ সালে পরিচালক হিসাবে ডিআরডিওতে ফিরে আসার সময় কালাম ইন্টিগ্রেটেড গাইডেড মিসাইল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করেন। তারপর তিনি 199২ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সিনিয়র বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা হন, তিনি একটি পারমাণবিক পরীক্ষার উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান করতেন।
কলম মে 1998 এর পোখরান -২ পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ছিল, যার মধ্যে রাজস্থান মরুভূমিতে পাঁচ পারমাণবিক ডিভাইস বিস্ফোরণ ঘটে। যদিও পরীক্ষার ফলে অন্যান্য বিশ্ব শক্তির কাছ থেকে নিন্দা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তবে দেশের নিরাপত্তার স্ট্যাঞ্চ প্রতিরক্ষার জন্য কালামকে জাতীয় নায়ক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।
২00২ সালে, ভারতের ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সে কলমকে লক্ষ্মী সাহগালের বিরুদ্ধে নির্বাচনে জয়ী হতে এবং ভারতের 11 তম রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠে, যা মূলত আনুষ্ঠানিক পোস্ট। গণপ্রজাতন্ত্রী হিসাবে পরিচিত, কালাম তার পাঁচ বছরের মেয়াদে তরুণদের সাথে একসঙ্গে 500,000 এক-এক বৈঠক পরিচালনা করার লক্ষ্যে একটি লক্ষ্য স্থাপন করেন। ২003 ও ২006 সালে তাঁর যুবক আইকন অব দ্য ইয়ার পুরস্কারের জন্য এমটিভির মনোনয়ন পেয়ে তাঁর অসাধারণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

রাজনৈতিক জীবন




আমরা সবাই এটা জানি যে, এ.পি.জে. আব্দুল কালামের ব্যক্তিগত জীবন খুবই সহজ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিলো । তিনি ছোট বাচ্চাদের খুবই ভালোবাসতেন এবং তাদেরকে সর্বদা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করতেন যেগুলো তাদের ভবিষ্যতকে আরও সুন্দর বানাতে সাহায্য করতে পারে ।
তিনি কখনই একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন না, কিন্তু রাজনীতিতে থাকার মাধ্যমে তিনি সর্বদা দেশের উন্নয়নের কথাই  ভাবতেন । তিনি মনে করতেন, যুবসমাজের সুন্দর উন্নতিই পারে এই দেশকে অনেক আগে এগিয়ে নিয়ে যেতে ।
তিনি এটাও চেয়েছিলেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মানের ক্ষেত্রে ভারত একটা বড় শক্তি হিসাবে পরিচিতি পাক বিশ্বের বুকে ।
তিনি বলেছিলেন: “2000 বছরের ইতিহাসে , ভারতকে 600 বছর ধরে অন্য শক্তিরাই শাসন করেছে । যদি আপনি বিকাশ চান তবে দেশে শান্তির পরিস্থিতি থাকা অবশ্যক আর শান্তি, শক্তির দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত হয় । এই কারণে ক্ষেপনাস্ত্রকে বিকশিত করা হয়েছে যাতে দেশ, শক্তি সম্পূর্ণ হয়”।



এরপর ২০০৭ সালে আব্দুল কালামের রাষ্ট্রপতি হওয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় । তারপর তিনি ভারতের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রফেসর হিসাবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন । ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ শিলং, আহমেদাবাদ এবং ইন্দোরের মতো অনেক জায়গায় এবং ব্যাঙ্গালোরে ভারতীয় বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানেও তিনি অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেছিলেন।
এছাড়াও তিনি আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের এয়ারস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক হিসাবেও নিযুক্ত ছিলেন অনেক বছর ।


তাঁর কিছু অজানা তথ্য সম্পর্কে (সংগ্রহীত) :




১. আট বছর বয়স থেকেই কালাম স্যার, ভোর ৪টেয় ঘুম থেকে উঠতেন এবং তারপর স্নান করে অঙ্ক শিখতে চলে যেতেন স্থানীয় শিক্ষকের কাছে । এত ভোরবেলায় তাঁর এই স্নান করার কারণ ছিলো, তিনি যেই শিক্ষকের কাছে পড়তেন, তিনি এমন কোনো বাচ্চাকে পড়াতেন না, যে সকালে তার কাছে স্নান না করে পড়তে আসতো।
তাছাড়া সেই শিক্ষক প্রত্যেক বছর ৫টা বাচ্চাকে বিনামূল্যে ভোরবেলা অঙ্ক শেখাতেন যার মধ্যে কালাম স্যারও ছিলেন।

২. কালাম স্যারের বাবা পেশায় একজন নৌকা চালক ছিলেন এবং  তিনি সেখানকার স্থানীয় জেলেদের নৌকা ভাড়াতে দিতেন । বাবা-মা ও পাঁচ ভাই-বোন সমৃদ্ধ, এক বিশাল পরিবারের পেট চালানোর জন্য তাঁকেও ছোটবেলা থেকে কাজ করা শুরু করে দিতে হয় ।

৩. ১৯৯২-১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ছিলেন । সেইসময় বাজপায়ী সরকার দ্বিতীয়বারের জন্য ভারতের পোখরানে পরমাণু বোমের সফল পরীক্ষা করে, যার সুবাদে ভারত বিশ্বের বুকে পারমানবিক বোম নির্মানকারী দেশ হিসাবে পরিচিতি পায় ।

৪. ১৯৮২ সালে কালাম স্যার, ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক হিসাবে নিযুক্ত হন । সেই বছর আন্না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক তাঁকে “ডক্টরেট” উপাধিতে সম্মানিত করা হয় । তারপর স্বদেশী মিসাইলের উন্নতির জন্য তাঁর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয় ওই বছরেই, যেখানে তিনি সভাপতিত্বও করেন ।

৫. ভারতের সর্বোচ্চ পদে নিযুক্ত হওয়ার আগে “ভারতরত্ন” সম্মানের অধিকারী হওয়া, দেশের তৃতীয় রাষ্ট্রপতি ছিলেন কালাম স্যার । তাঁর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন- স্যার সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণান ও জাকির হোসেন ।


পুরস্কার এবং সম্মাননা




1. ১৯৮১ সাল: পদ্ম ভূষণ পুরস্কার।

2. ১৯৯০ সাল: পদ্ম বিভূষণ পুরস্কার।

3. ১৯৯৪ সাল: ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ডিরেক্টরস কর্তৃক “বিশিষ্ট সহকর্মী”(Distinguished Fellow) পুরস্কার।

4. ১৯৯৭ সাল: ভারতরত্ন পুরস্কার ও ইন্দিরা গান্ধী পুরস্কার।

5. ১৯৯৮ সাল: বীর সাভারকার পুরস্কার।

6. ২০০০ সাল: চেন্নাইয়ের আলওয়ার গবেষণা কেন্দ্র কর্তৃক “রামানুজন পুরস্কার”।

7.  ২০০২ সাল: ভারতের ১১তম রাষ্ট্রপতি

8. ২০০৭ সাল: উল্ভার্হাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক “ডক্টরেট” সম্মানে ভূষিত হওয়া।

9. ২০০৮ সাল: নানইয়াং টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি কর্তৃক “ডক্টরস অফ ইঞ্জিনিয়ারিং” সম্মানে ভূষিত হওয়া।

10. ২০০৯ সাল: ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কর্তৃক আন্তর্জাতিক “ভন ক্রমান উইংস” পুরস্কার।

11. ২০১০ সাল: ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক “ডক্টরস অফ ইঞ্জিনিয়ারিং” সম্মানে ভূষিত হওয়া।

12. ২০১২ সাল: সাইমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটি কর্তৃক ““ডক্টর অফ ল” সম্মানে ভূষিত হওয়া ।



শেষের জীবন




অবশেষে, ২৭শে জুলাই, ২০১৫ সালে মেঘালয়ের শিলং শহরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে “বসবাসযোগ্য পৃথিবী” বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় সন্ধ্যা ৬:৩০ নাগাদ হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্যার এ.পি.জে আব্দুল কালাম ।
তাঁকে এরপর সেখান থেকে বেথানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ভারতীয় সময় ঠিক সন্ধ্যা ৭:৪৫ মিনিটে তাঁর মৃত্যু ঘটে । তাঁর মৃত্যুর কিছু সময় পরই তাঁর মৃতদেহকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার মারফৎ শিলং থেকে গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়া হয়, আর তারপর সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় নয়া দিল্লিতে ।
সবশেষে, সকলের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর তাঁর মৃতদেহকে রামেশ্বরমেই দাহ করা হয় ।
স্যার এ.পি.জে আব্দুল কালাম সারা জীবন ধরে যা আয় করেছিলেন তার কিছুই তিনি নিজের জন্য সঞ্চিত রাখেননি, সব কিছুই তিনি দান করে গেছিলেন ।মানবতাই ছিলো তাঁর জীবনের শেষ কথা । তাইতো, সবাইকে তিনি মিলে মিশে থাকার পরামর্শ দিয়ে গেছিলেন বার বার ।
জীবনের শেষদিন পর্যন্ত শিক্ষামূলক কাজের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছিলেন। তাঁর অবদান, কোনো ভারতবাসী কোনোদিনই ভুলতে পারবেনা । তিনি আজও আমাদের প্রত্যেকের মনের গভীরে, অমর হয়ে আছেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন ।


আরো পড়ুন : কিভাবে ইন্টারনেটে প্রতারণার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন ? 

2 Comments

  1. ভালো লাগলে শেয়ার অবশ্যই করবেন এবং কমেন্ট করে জানান কেমন লাগলো
    #interrst_eduction
    #biography

    ReplyDelete
  2. খুবই ভালো লাগলো। ধন্যবাদ।

    ReplyDelete

Post a Comment

Previous Post Next Post