Best Bengali short stories in 2019 | story of a super hero | InteresT EducatioN


এমন যদি সত্যি হতো যে সুপার হিরো সত্যি সত্যি হতো তাহলে হয়তো অনেক ভালো হতো। আমরা ক্রিকেট বা ফুটবল খেলা দেখার সময় যে টানটান উত্তেজনা অনুভব করি, সেই উত্তেজনাটাই হত যখন সত্যি সত্যি একজন সুপার হিরো থাকতো আমাদের পৃথিবীতে। তবে অবশ্য আমাদের পৃথিবীতে সুপার হিরো রয়েছে একটি নয়! রয়েছে হাজারো, লাখ, কোটি কোটি সুপার হিরো। প্রথমে রয়েছে প্রত্যেকটা দেশের সেনাবাহিনী তারপরে রয়েছে পিতা মাতা, এবং তার পরে রয়েছে সেই পিতা মাতার সন্তান। কারণ একটি দেশের সুপার হিরো হল সেই দেশের সেনাবাহিনী আর প্রত্যেক সন্তানের কাছে তার পিতা মাতা হলো ভগবান বা একজন সুপার বাবা অথবা সুপার মা, এবং অবশ্যই প্রত্যেক পিতা মাতার কাছে তার সন্তানেরা সুপারহিরো থেকে কম নয়।

এবং আজকে আমরা দেখতে চলেছি এক সুপার হিরোর গল্প, তবে আগেই বলে রাখি এই গল্পটি পুরোপুরিভাবে লেখকের কাল্পনিক ভাবনা, গল্পটিতে কোন বাস্তব চরিত্রের উল্লেখ নেই।




সুপার হিরো



সময় হল এমন এক ধরনের শক্তিশালী শক্তি যার কাছে সবাই হার মানবে এবং এই সময় বা শক্তি গড়ে তুলেছে প্রকৃতির এই সৌন্দর্যময় পরিবেশ এবং মানুষকে। আমরা সকলেই জানি যে মানুষের জন্ম হলে মৃত্যু অনিবার্য। না জানি সময় কত জীবনের জন্ম দিয়েছে কত জীবন কেড়েছে ঠিক এরকমভাবে সময় জন্ম দিয়ে চলেছে মানুষকে। গল্পটি শুরু করার আগে আপনাদের কে একটা কথা আবারও বলব গল্পটি শুধুমাত্র লেখকের ভাবনা চিন্তা ও কাল্পনিকতার বহিঃপ্রকাশ।



কোন এক সময়ে কোন অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করে একটি ছেলে, যে আর পাঁচটা বাচ্চার মতো ছিল না। তার সারা শরীর জুড়ে লোম গুলি আগুনের মত জ্বলছিল। ডাক্তার থেকে শুরু করে তার পরিবারের সমস্ত মানুষ এই ঘটনাটি দেখে হতভম্ব হয়ে যায় এবং সেই বাচ্চাটির জন্মের কিছু সময়ের মধ্যেই সেই অবিশ্বাস্য আগুন আস্তে আস্তে অদৃশ্য হয়ে যেতে থাকে। এই ঘটনার বেশ কয়েক বছর পর যখন ছেলেটি হাঁটতে শিখলো তখন তার পরিবারের কাছে তার জন্য কোন রকম খেলনা কিনে দেবার মত টাকা পয়সা ছিল না। তার বাবা তার জন্য নিজে হাতে খেলনা তৈরি করে  দিতেন। এভাবে দিন যেতে থাকে বছর পেরাতে থাকে কিন্তু সেই ছেলেটি সময়ের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করতে পারছিল না। ঠিক যেন সে এক জলের মাছ, জলের বাইরে এসে সে নিজেকে জলের বাইরের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে পারছে না। সে না পারে ঠিকঠাক করে পড়াশোনা করতে, আর না পারে বন্ধুদের সাথে তাল মিলিয়ে খেলাধুলা করতে। 'তবে এখন বর্তমানে আপনি এমন অনেক উদাহরণই পেয়ে যেতে পারেন'।

এরকম ঘটনার জন্য ছেলেটি নিজে নিজেকে এক অভাগা বলে মনে করত এবং ছেলেটি তার নিজের প্রতি আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে যেতে থাকে।




সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল আপনারা হয়তো জানেন গ্রীষ্মকালের বিকালের দিকে কালবৈশাখী ঝড় এবং বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে থাকে। ছেলেটি রোজকার মতো তার বন্ধুদের সাথে এক মাঠে খেলা করছিল হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া বইতে থাকে সবাই যে যার মত বাড়ির দিকে দৌড়াতে থাকে, সবার শেষে ছেলেটি দৌড়চ্ছিল, ঠিক সেই সময় ছেলেটির সোজাসুজি উপর থেকে আসা বজ্রাঘাত আছড়ে পড়ে ছেলেটির উপর, এবং সাথে সাথে প্রত্যেকটি দিক পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, ঈশান, নৈঋত, অগ্নি, বায়ু এই আটটি দিক থেকে বজ্রপাত আবার আছড়ে পরে ছেলেটির উপর। প্রথম বজ্রপাতের কারণে তার বন্ধুরা জ্ঞানশূন্য হয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং সাথে সাথে আটটি দিক থেকে আসা বজ্রপাত পরার পর ছেলেটির চারিপাশে গোলাকার আগুনের তৈরী এক শক্তিশালী আগুনের পর্দা তৈরি হয়ে যায়। আর আটটি দিক থেকে আসা বজ্রপাত এবং উপর দিক থেকে আসা বজ্রপাতে মিলিয়ে নয়টি বজ্রপাত একত্রে তৈরি করে ওই গোলাকার পর্দাটি তার কিছুক্ষণ পর ওই আগুনের তৈরী গোলাকার পর্দাটি বজ্রবিদ্যুৎ সহ উপর দিকে উঠতে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 60 মিটার উচ্চতায় উঠে ওই আগুনের গোলাকার পর্দাটি যেন মহাকাশের কোথাও থেকে শক্তি সঞ্চয় করছিল। এই ঘটনার সাথে সাথে বৃষ্টি এবং পাল্লা দিয়ে ঝড় বইতে শুরু করে কিন্তু ওই এলাকার মানুষজন এরকম এক আলোক রশ্মি দেখতে পেয়ে বাইরে বেরিয়ে এই ঘটনাটি দেখে বিস্ময়ে সকলে হতভম্ব হয়ে যায়। ঝড়-বৃষ্টি কমতে শুরু করলে ওই মাঠের চারিপাশে লোকজনের ভিড় জড়ো হতে শুরু করে এবং মাঠে পড়ে থাকা ছেলেগুলোকে উদ্ধার করে তারা উপরে থাকা ছেলেটি কে চিনতে পারে যে ওই আগুনের গোলা টির মধ্যে নিস্তেজ অবস্থায় শুয়ে রয়েছে। ছেলেটির বাবা-মা বিস্ময়ে খুব ভয়ে কান্নাকাটির সাথে চেঁচামেচি শুরু করে দেয়।



ঘটনাটি খবরের চ্যানেল এর সামনে আসে প্রত্যেকটি খবরের চ্যানেলে দেখানো শুরু হয় এই ঘটনাটি পরদিন সকালে খবরের কাগজে বেরিয়ে যায় এই ঘটনাটি। দূর থেকে লোকজন আসতে শুরু করে এই ঘটনাটি দেখতে, শুধু দূর নয় দেশ দেশান্তর থেকে মানুষ ছুটে আসছে এই ঘটনাটিকে দেখতে এমনকি শুধু মানুষেরা নয় বৈজ্ঞানিকরা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে এবং প্রত্যেকটি মানুষকে এমন ঘটনা সবাইকে আজব করে দিয়েছে।  এই ঘটনার তিনদিন পর ওই আগুনের গোলা টি শক্তি কমতে শুরু করে এবং যে সময় বজ্রপাত হয়েছিল ঠিক সেই সময়ইওই গোলাকার পর্দাটি আস্তে আস্তে অদৃশ্য হয়ে যায় এবং ছেলেটি উপর থেকে নিচে পড়ে যায় উল্কাপিন্ডের মত। ছেলেটি যখন উপর থেকে নিচে পড়ছিল তখন তার গায়ে আগুন লেগে গিয়েছিল, মাটিতে স্বজোড়ে আছড়ে পড়াতে সে জায়গায় এক বোমা বিস্ফোরণের মতো বিস্ফোরণ ঘটে। কিছুক্ষণ পর ওই জায়গাটি ঘিরে পুলিশ বাহিনী দাঁড়িয়ে যায় যাতে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয় এরপর বৈজ্ঞানিকরা সেই জায়গাটিতে গিয়ে দেখে ছেলেটি 1 গজ মাটির নিচে গর্ত হয়ে পড়ে আছে এবং তার গা দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে । এখানেই শেষ নয় যখন বৈজ্ঞানিকরা তার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে গেলো তখন তারা হতভম্ব হয়ে গেল কারন ছেলেটির গায়ে তাপমাত্রা ছিল প্রায় জল ফুটে বাষ্প হওয়ার তাপমাত্রার দ্বিগুণ।  ছেলেটিকে যান্ত্রিক লিভারের মাধ্যমে মাটির নিচের থেকে উপরে তোলা হয় এবং বৈজ্ঞানিকরা দেখতে পায় তার দেহে এখনো প্রাণ রয়েছে অর্থাৎ ছেলেটির খুব দ্রুত হৃদস্পন্দন হচ্ছিল। তৎক্ষণাৎ ছেলেটির চিকিৎসা শুরু হয়, ধীরে ধীরে ছেলেটির শরীরের তাপমাত্রা কমতে থাকে এবং ছেলেটির পরিবারের সাথে কথা বলা হয় এবং তার পরিবারকে সান্তনা দেওয়া হয় সরকারি তরফ থেকে। আরো আশ্চর্যের ঘটনাটি হল ছেলেটির জ্ঞান ফিরছিল না, এবং ছেলেটির ওজন যেন আগের তুলনায় অনেক বেশি ছিল, ওই দিন থেকে শুরু করে এক সপ্তাহ পর ছেলেটির জ্ঞান ফেরে। ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ও ছেলেটির শরীর থেকে বিন্দুমাত্র আলাদা এবং সন্দেহজনক কোন কিছুই খুঁজে পাননি।
এবার আপনাদেরকে বলে রাখি ওই ছেলেটি সম্বন্ধে অনেক আর্টিকেল লেখা হয় অনেক খবরের কাগজে ছেলেটি সম্বন্ধে প্রকাশিত করা হয় বিভিন্ন খবরের চ্যানেল এই ছেলেটি অদ্ভুত গোলাকার অগ্নিপিণ্ড ও ছেলেটি সম্বন্ধে দেখানো হয় সবাই ভাবছিল হয়তো ছেলেটি একজন সুপার হিরো যে আমরা জানতাম না তার জ্ঞান ফেরার পরে হয়তো সে আমাদের পৃথিবীটা কে বাঁচিয়ে ফেলবে সিনেমাতে দেখা সুপার হিরোদের মত এবং আস্তে আস্তে ছেলেটির সুনাম হতে থাকে।
জ্ঞান ফেরার পর বেশ মাসখানেক পরে ছেলেটি মারা যায়। মারা যায় মানুষের মনে উৎপন্ন হওয়া এই সুপার হিরো যাকে ডাক্তার বা বৈজ্ঞানিকরা তাদের পরীক্ষাগারে কাটা ছেঁড়া করছিল। আর এই কাটাছেঁড়ার দৌলতে ছেলেটি শরীরে কেমিক্যাল এর প্রভাব এবং কৃত্রিম আগুন ও ইলেকট্রিক দিয়ে পরীক্ষা করা হতো। প্রকৃতি থেকে পাওয়া অদ্ভুত ক্ষমতা বিজ্ঞানিদের ল্যাবে কেমিক্যাল এবং কৃত্রিম আগুন ও ইলেকট্রিক এর কাছে হার মেনে ছিল।
হয়তো ছেলেটি হয়ে উঠতে পারত একজন সত্যি কারের সুপার হিরো কিন্তু এই জগত তাকে হতে দিল না সুপার হিরো, আর বাঁচানো হলো না মনুষ্য অস্তিত্বকে যা হয়তো ঈশ্বর শেষবারের মতো পৃথিবীর রক্ষাকবচ হিসেবে দিয়েছিল।





গল্পটি আমার সম্পূর্ণ কাল্পনিক চিন্তার এক বহিঃপ্রকাশ গল্পটি যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্টে আমাকে জানাতে পারেন ও আমাকে উৎসাহ দিতে পারেন এরকম নতুন নতুন গল্প বানানোর জন্য। ভালো লাগলে শেয়ার করুন ও আমাকে ফলো করুন Facebook, Twitter, LinkedIn, ও pinterest এ।

আরো পড়ুন : অরুনিমা সিনহার জীবনী

Post a Comment

Previous Post Next Post