birds death due to radiation | birds death exposed by InteresT EducatioN


পাখিদের মৃত্যুর কারণ কি ?  পাখিদের মৃত্যুর আসল কারণ জানুন




রোবট 2.O মুভি টা আমরা সকলে দেখেছি, এবং মুভিতে দেওয়া সোশ্যাল ম্যাসেজ ও আমরা বুঝেছি। সোশ্যাল ম্যাসেজ টা ছিল  "প্রকৃতীর অন্যতম জীব পাখিদের বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণ মোবাইল ফোনের টওয়ার ও অগাধ মোবাইল ব্যাবহার" ।

আপনি হয়ত ভাবছেন এ তো জানা কথা, এটি আবার বলার কী আছে ?

কিন্তু আপনি ভুল ভাবছেন , আপনি ভুল ভাবছেন টেকনোলজি কে নিয়ে। রোবট 2.O মুভিটা হলো সাইন্সফিকশন এর মুভি। আর সাইন্স ফিকশন এর মুভি দেখে বিশ্বাস করা হলো বোকামি। কারণ সাইন্স ফিকশন এর মুভি গুলো সবটাই কল্পনা, আপনাকে একটা বাস্তব উদাহরণ দিচ্ছি ; আপনি হলোগ্রাম এর ব্যাপারে শুনে থাকতে পারেন বা কোনো সিনেমা তে দেখে থাকতে পারেন, যেমন Iron-man এর পার্টগুলো তে হলোগ্রাম দেখানো হয়েছে। সেটা কি সত্যি ? না হলোগ্রাম এখনো আবিষ্কৃত হয়নি।




বাস্তব এ মোবাইল বা মোবাইল টওয়ার কী কোনো ক্ষতি করে ?



বাস্তবে এ মোবাইল বা মোবাইল টওয়ার কোনো ক্ষতি করে কি জানার জন্য আমাদের জানতে হবে রেডিএসন  কী ? রেডিএসন কোনো সেলফোনের থেকে বেরোয় ? আসুন তাহলে জানা যাক।

রেডিএসন হলো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভস । যখন আপনি আপনার ফোনে এ কলিং ফাংশন ইউজ করেন তখন আপনার ফোন 2G, 3G, বা 4G কানেকশনে টওয়ার এর সাথে কমিউনিকেট করে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভস এর দ্বারা ।



রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ওয়েভস হলো একধরনের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ। আপনি যদি ক্লাস 12 এর পদার্থ বিজ্ঞান এ ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ পড়ে থাকেন তাহলে হয়ত আপনি জেনে থাকবেন যে
ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ উৎপন্ন হয় ইলেকট্রনিক ফিল্ড ও ম্যাগনেটিক ফিল্ড থেকে। এর সবথেকে ভালো উদাহরণ হলো লাইট, লাইট নিজেই ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ।



যদি আপনি জেনে থাকেন 'The Electromagnetic Spectrum'  এটি হলো আলাদা আলাদা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ গুলিকে ভাগ করে। এর কিছু উদাহরণ হলো  -



১. Radio : এগুলো হলো সেই ওয়েভ যে ওয়েভ গুলোর ওয়েভলেন্থ বেশি। রেডিও ওয়েভ মিটার থকে কিছু কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

২. Microwave : আবার মাইক্রোওয়েভ এ ওয়েভ ওয়েভলেন্থ থাকে কিছু সেন্টিমিটার পর্যন্ত। মাইক্রোওয়েভে মাইক্রো-ওয়েভের ব্যাবহার করা হয়। এটার দ্বারা হিট উৎপন্ন হয়।

৩. Infrared : ইনফ্রা-রেড আমরা ব্যাবহার হয় রিমর্ট কন্ট্রোল টিভিতে।

৪. Visible light : Visible লাইট হলো সেগুলো যেগুলো আমরা আশেপাশে লক্ষ্য করি, ৩৫০ থেকে ৭০০ নানো মিটার পর্যন্ত। আলাদা আলাদা কালার এর আলাদা আলাদা ওয়েভলেন্থ হয়।

৫. Ultra violet (UV rays) : এখান থেকেই ফ্রেকোয়েন্সি অনেকটাই বেশি হয় ।

৬. X-rays

৭. Gamma rays



তো এই যে Visible লাইট ঠিক এর পর থেকেই বেশি সমস্যা তৈরি হয়। কারণ এদের ফ্রেকোয়েন্সি এতটাই বেশি হয়, এদের ওয়েভলেন্থ এতটাই ছোট হয়ে যায় যে  যেকোনো মলিকিউল এর ভেতরের কেমিক্যাল বন্ড কে খুব সহজেই ভেঙ্গে ফেলতে পারে। এই জন্য একে বলা হয় Ionizing রেডিয়েশন। এই Ionizing রেডিয়েশন মানুষ ও প্রাণীদের অনেক ক্ষতি করে। এটি মানুষের শরীরে ঢুকে গিয়ে DNA কেও ভেঙে ফেলতে পারে যার ফলে ক্যান্সার ও পর্যন্ত হতে পারে।

ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ যত বেশি হবে ততবেশি ক্ষতিকারক হয়।
যেমন নিউক্লিয়ার মেটেরিয়াল থেকে বেরোনো যে সমস্ত রেডিও অ্যাকটিভিটি হয় ওগুলো সবথেকে বেশি ক্ষতিকারক হয়, কারন ওই রেডিয়েশন এর ফ্রিকোয়েন্সি ও পাওয়ার সবথেকে বেশি থাকে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো যে নর্মাল লাইট আমরা সাধারণত দেখতে পায় তার আগের যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ওয়েভ যাকে Non-Ionizing Radiation বলা হয়ে থাকে,
এই Non-Ionizing Radiation কি মানুষ বা জীব জন্ত্রুদের ক্ষতি করে ?

বৈজ্ঞানিক রিসার্চ এ এখনো কোনো উপসংহার বের হয়নি, তবে কোনো কোনো রিসার্চ বলে যে Non-Ionizing Radiation মানুষ বা জীব জন্ত্রুদের কোনো ক্ষতি করে না। তবে কিছু বিজ্ঞানী দল ও তাদের রিসার্চ এটা বলে যে Non-Ionizing Radiation আপনার মধ্যে ক্যান্সার বা মিউটিশন করে না যতটা Non-Ionizing Radiation সাধারণত করে থাকে।

কিন্তু এখানে আরো একটা প্রশ্ন হলো Non-Ionizing Radiation কি অন্য কোনোভাবে আমাদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে?




এটা বলা যেতে পারে যে রিসার্চ এখনো চলছে কিন্তু এমন একজন বিজ্ঞানী রয়েছেন যিনি তার রিসার্চ এর উপর ভিত্তি করে বলেন যে Non-Ionizing Radiation এর জন্য যে হিট তৈরি হয় , মাইক্রোওয়েভ আপনি জানেন যেটা দিয়ে আমরা খাবারকে গরম করে থাকি, তো এই হিট যদি আমরা কোনোভাবে মনোযোগ সহকারে মানুষের শরীরের কোষ এ দেওয়া যায় তবে শরীর পুড়ে যেতে পারে।
ঠিক এই কারণেই জন্য আলাদা আলাদা গভর্নমেন্ট রেডিএসন লিমিট রেখেছে সেলফোন ও সেলফোনের টাওয়ার এর জন্য । এই জন্য রেডিএসন লিমিট রেখেছে যাতে Non-Ionizing Radiation বের হয়ে কোনো মানুষের শরীর পুড়তে থাকে।

আমেরিকান এজেন্সি (FCC) সেলফোনের রেডিয়েশন লিমিট রেখেছে 1.6 w/kg , এর থেকে বেশি হবে না। আর এই লিমিট অনেকটাই কম ও সুরক্ষিত যা কিনা মানুষ কে ক্ষতি করতে পারে।
সেলফোন ব্যবহার করতে কোনো হার্মফুল ইফেক্ট বের হয় তার চান্স ও খুব কম। উদাহরণস্বরূপ আপনি সারা পৃথিবীর জনসংখ্যা ও মোবাইল ব্যবহারকারী , আপনি নিচের ছবিতে দেখতে পারেন আগের কিছু বছরে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা কত বেড়েছে। কিন্তু এমন কোনো ব্যাধি দেখা যায়নি যা মোবাইল ব্যবহারের সাথে সাথে বেড়েছে।



আপনি পুরো পৃথিবীর ক্যান্সার এর চার্ট ও দেখতে পারেন , এমন কোথাও দেখা যায় যেটা মোবাইল ব্যবহারের সাথে সাথে বেড়েছে ।



আপনি ব্রেইন ক্যান্সার এর চার্ট ও দেখতে পারেন।



United Kingdom এর lung cancersmoking রেটস দেখতে পারেন, যা কিনা আগের তুলনায় কত হারে কমেছে , এবং এর থেকে এটাও বোঝা যায় যে স্মোকিং এর সাথে ক্যান্সার এর কোথাও না কোথাও যোগাযোগ অবশ্যই আছে।



এবং আপনি লক্ষ্য করবেন যে যেসব দেশগুলিতে smoking রেটস বেশি সেই দেশগুলিতে ক্যান্সার এর সংখ্যা ও বেশি, যেমন china তে 50% এর বেশি পুরুষ স্মোকিং করে , তার জন্য সেখানে ক্যান্সার এর সংখ্যা ও বেশি।



আর ঠিক একইভাবে Ultra violet radiationskin cancer এ লক্ষ্য করা যায়।
অস্ট্রেলিয়া এক এমন দেশ যেখানে সবথেকে বেশি স্কিন ক্যান্সার এর কেস দেখা যায়, যার কারণ হলো সেখানে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি পরে, আর যে ওজন হোল ও অবস্থান করছে ঠিক অস্ট্রেলিয়ার কাছে যার ফলে Ultra violet রশ্মি সরাসরি ওই ওই দেশে পরে থাকে, আর যার জন্য skin cancer এর সংখ্যা বেশি।



তো আমার এতগুলো উদাহরণ দেওয়ার মানে হলো স্মার্টফোন ও সেলফোন টাওয়ার মানুষ ও কোনো রকম প্রাণীদের ক্ষতি করে থাকে না।
এর পরেও যদি আপনি ভয় পেয়ে থাকেন তাহলে আমার একটাই টিপস হলো আপনি ফোন রিসিভ করে কানে লাগিয়ে কথা বলবেন না, প্রয়োজন হলে হেডফোন ব্যবহার করুন । এর কারণ হলো আপনি যত বেশি ফোন কানে ধরে রাখবেন ঠিক ততবেশি হিট তৈরি হবে যা আপনার মাথায় সমস্যা শুরু হতে পারে।


পাখিদের বিলুপ্ত হওয়া বা মৃত্যুর আসল কারণ কী ?




আমরা যা কিছু আলোচনা করছি সেগুলো সবটাই বৈজ্ঞানিক রিসার্চ এর উপর ভিত্তি করেই।

এক্সপার্ট দের মতে পাখিদের বিলুপ্ত হওয়া বা মৃত্যুর আসল কারণ হলো চাষবাস।
আপনি ভাবছেন চাষবাস কিভাবে পাখিদের বিলুপ্তির কারণ হতে পারে ?
অবশ্যই হতে পারে, ভেবে দেখুন তো চাষবাস এর জন্য আপনি ও আমি কি প্রয়োগ করছি যাতে ফসল ভালো ফলে, ভেবে দেখুন তো কীট,পতঙ্গ তাড়ানোর জন্য আপনি ও আমি কি করছি ?

পাখি পক্ষ সবসময় কীট পতঙ্গ আহারের উপর ভিত্তি করে বেঁচে থাকে, তারা আপনার আমার মতো সার ও কীটনাশক দেওয়া খাবার খেতে পারে না। তাদের আহার হলো শুধুমাত্র কীট পতঙ্গ ও ফলমূল , আর জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ এর কারণে কীট পতঙ্গএর মৃত্যু ও একই ভাবে ফলমূল ও । এবার আপনি ভেবে দেখুন তো পাখিদের বিলুপ্ত হওয়া বা মৃত্যুর আসল কারণ মোবাইল টওয়ার না চাসবাসে কীটনাশক প্রয়োগ ?




আমার বক্তব্য : আমার বক্তব্যের আগে আপনি ভেবে দেখুন ও দেখে নিচে কমেন্টে আমাকে বলুন আপনার বক্তব্য। তার আগে বলে রাখি বিভিন্ন রকম খবর দেখার পর একটু কষ্ট করে গুগোল এ রিসার্চ করুন যে খবর টা কতখানি সত্যি।

আমি এখানে নিজের বক্তব্য রাখলাম না, পুরোটাই গুগলে রিসার্চ করে পাওয়া , তাই বলবো whatsapp & Facebook - এ ফেক নিউজ গুলো গুগোল এ রিসার্চ করে বিশ্বাস করুন , ধন্যবাদ ।



অজানা কুসংস্কার, ফেক নিউজ, লুকানো সত্য  ইত্যাদি জানার জন্য আপনি নিচে কমেন্ট এ আমাকে জানতে পারেন ও আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথে যুক্ত হন। ধন্যবাদ ।





Post a Comment

Previous Post Next Post